স্মার্টফোন আসক্তি থেকে মুক্তি: জীবন বদলে দেওয়া সেরা ৫টি উপায়

স্মার্টফোন আসক্তি থেকে মুক্তি: জীবন বদলে দেওয়া সেরা ৫টি উপায়

webmaster

디지털디톡스와 스마트 기기 사용 줄이기 - **Prompt 1: Morning Serenity: Digital Detox Start**
    "A young woman in her late 20s is sitting co...

আজকাল সকালে চোখ খুলেই আমরা কি করি? বেশিরভাগ সময়ই তো অজান্তেই হাত চলে যায় স্মার্টফোনের দিকে, তাই না? অফিসের কাজ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বিনোদন – সবকিছুই এখন এই ছোট্ট ডিভাইসের স্ক্রিনে বন্দি। আমিও কিন্তু একসময় সারাক্ষণ ফোনেই ডুবে থাকতাম, এমনকি রাতের ঘুমটাও ঠিকমতো হতো না। মনে হতো যেন আমার সারাটা দুনিয়া এই ফোনের ভেতরেই। কিন্তু জানেন কি, এই সীমাহীন ডিজিটাল আসক্তি আমাদের অজান্তেই মানসিক শান্তি কেড়ে নিচ্ছে, পরিবার-বন্ধুদের সাথে দূরত্ব তৈরি করছে?

এই আধুনিক জীবনে প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি এর অতিরিক্ত ব্যবহারের কুফলগুলোও এখন স্পষ্ট। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, স্মার্ট ডিভাইস থেকে একটু বিরতি নিলেই মনটা অনেক ফুরফুরে হয়, আর কাজেও বেশি মন বসে। আপনিও যদি এই সমস্যায় ভুগছেন বা একটি স্বাস্থ্যকর ডিজিটাল জীবনযাপন খুঁজছেন, তবে এই লেখাটি আপনার জন্যই। চলুন, নিচের লেখাটিতে এই ডিজিটাল বিশ্বের গোলকধাঁধা থেকে বেরিয়ে আসার উপায়গুলো বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।

প্রযুক্তির মায়াজাল থেকে মুক্তির প্রথম ধাপ

디지털디톡스와 스마트 기기 사용 줄이기 - **Prompt 1: Morning Serenity: Digital Detox Start**
    "A young woman in her late 20s is sitting co...

সত্যি বলতে কি, আমরা সবাই কমবেশি প্রযুক্তির এই মোহে আটকে গেছি। সকালে ঘুম ভাঙা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত আমাদের সঙ্গী যেন এই স্মার্টফোন। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যখন আমি প্রথমবার ডিজিটাল ডিটক্সের কথা ভাবি, তখন ব্যাপারটা বেশ কঠিন মনে হয়েছিল। মনে হচ্ছিল যেন জীবনের একটা বড় অংশই আমি হারিয়ে ফেলব। কিন্তু একটু চেষ্টা করতেই বুঝলাম, এটা আসলে নিজেকে খুঁজে পাওয়ার একটা দারুণ সুযোগ। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আমি ঠিক করেছিলাম, রাতে ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে ফোনটা পুরোপুরি বন্ধ করে দেব। প্রথমে খুব অস্বস্তি হয়েছিল, বারবার মনে হচ্ছিল কী জানি মিস করে যাচ্ছি! কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই দেখলাম, আমার ঘুম অনেক ভালো হচ্ছে, সকালে উঠেও মনটা ফ্রেশ থাকছে। বিশ্বাস করুন, এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলোই আমাদের জীবনে বড় প্রভাব ফেলে। ডিজিটাল ডিভাইস থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়াটা হয়তো এই মুহূর্তে সম্ভব নয়, কিন্তু এর অতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে আনাটা কিন্তু খুব কঠিন নয়। শুধু সদিচ্ছা আর একটু পরিকল্পনা থাকলেই হয়। আমার মনে আছে, প্রথম সপ্তাহে আমি প্রতিদিন নিজের স্ক্রিন টাইম ট্র্যাকার চেক করতাম আর অবাক হতাম, কীভাবে এতগুলো ঘন্টা আমার অজান্তেই ফোনের পেছনে চলে যেত। তারপর সেই সময়গুলোকে অন্য কোনো সৃজনশীল কাজে লাগানো শুরু করলাম। আপনিও একবার চেষ্টা করে দেখুন, দেখবেন একটা নতুন জীবন যেন আপনার জন্য অপেক্ষা করছে!

নিজের অভ্যাসকে চিনুন

প্রথমেই নিজের স্মার্টফোন ব্যবহারের ধরনটা একটু বোঝার চেষ্টা করুন। আপনি দিনে কতক্ষণ ফোন ব্যবহার করছেন? কোন অ্যাপগুলোতে বেশি সময় কাটাচ্ছেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে বের করাটা খুব জরুরি। আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার ফোনের ‘স্ক্রিন টাইম’ ফিচারটা ব্যবহার করেছিলাম, আর ফলাফল দেখে চোখ কপালে উঠেছিল! দিনে প্রায় ৬-৭ ঘণ্টা আমি ফোনে ছিলাম, যার বেশিরভাগই ছিল সোশ্যাল মিডিয়া আর ভিডিও দেখা। এই তথ্যটা পাওয়ার পর আমি একটা রুটিন তৈরি করেছিলাম, যেখানে কখন ফোন দেখব আর কখন নয়, তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা ছিল। একটা নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন যখন আপনি ফোন ব্যবহার করবেন না। যেমন, খাওয়ার সময় বা পরিবারের সাথে কথা বলার সময়। দেখবেন, এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো আপনাকে কতটা স্বস্তি এনে দেবে।

নোটিফিকেশনের ফাঁদ থেকে বাঁচুন

আমাদের ফোনের নোটিফিকেশনগুলো একরকম ফাঁদের মতোই কাজ করে, তাই না? টুং করে একটা আওয়াজ আর আমরা বাধ্য হই ফোনটা হাতে নিতে। আমি যখন ডিজিটাল ডিটক্স শুরু করেছিলাম, সবার আগে আমার ফোনের সব অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিয়েছিলাম। শুধু জরুরি কিছু যেমন, কল বা মেসেজের নোটিফিকেশন চালু রেখেছিলাম। এতে হয় কি, আপনার মন বিক্ষিপ্ত হয় না এবং আপনি নিজের কাজ বা প্রিয়জনদের সাথে সময় কাটানোর সময় আরও মনোযোগ দিতে পারেন। প্রথমে একটু খারাপ লাগতে পারে যে, হয়তো কিছু মিস করে যাচ্ছি, কিন্তু বিশ্বাস করুন, কিছুক্ষণ পরেই আপনি বুঝতে পারবেন, বেশিরভাগ নোটিফিকেশনই আসলে অতটা জরুরি নয়। আমি দেখেছি, এতে আমার কাজের উৎপাদনশীলতা অনেক বেড়েছে, কারণ বারবার ফোন চেক করার তাগিদটা কমে গিয়েছিল।

সময়কে বশে আনার ম্যাজিক কৌশল

আমরা সবাই চাই সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে, কিন্তু এই স্মার্ট ডিভাইসগুলো প্রায়শই আমাদের অজান্তেই অনেকটা সময় গিলে ফেলে। আমার মনে আছে, একসময় আমি কাজের ফাঁকে বারবার ফোন চেক করতাম, ভাবতাম এটা বুঝি ব্রেইন রিফ্রেশার। কিন্তু শেষমেশ দেখা যেত, কাজের থেকে বেশি সময় আমার ফেসবুকের নিউজফিড স্ক্রল করতেই চলে যেত। এই অভ্যাসটা ভাঙতে আমি কিছু কৌশল অবলম্বন করেছি যা আমার জন্য ম্যাজিকের মতো কাজ করেছে। যেমন, সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোন চেক করার বদলে আমি হালকা ব্যায়াম করতাম বা একটা বইয়ের কয়েক পাতা পড়তাম। এতে আমার দিনটা শুরু হতো অনেক সতেজ আর ইতিবাচক উপায়ে। দিনের বেলা কাজের সময় আমি আমার ফোনটা অন্য ঘরে রেখে দিতাম বা সাইলেন্ট মোডে রাখতাম যাতে কোনো নোটিফিকেশন আমাকে বিরক্ত করতে না পারে। এতে আমার ফোকাস অনেক বেড়েছে এবং আমি অল্প সময়ে বেশি কাজ করতে পেরেছি। আপনিও যদি মনে করেন আপনার সময় স্মার্টফোনের পেছনে বেশি চলে যাচ্ছে, তাহলে এই পদ্ধতিগুলো একবার চেষ্টা করে দেখতে পারেন। দেখবেন, সময়ের লাগাম টেনে ধরাটা আসলে ততটা কঠিন নয় যতটা আমরা ভাবি।

ডিজিটাল রুটিন তৈরি করুন

আমার মনে হয়, একটা নির্দিষ্ট ডিজিটাল রুটিন তৈরি করাটা খুবই কাজের। যেমন, আমি প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এক ঘণ্টা এবং সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথম এক ঘণ্টা কোনো স্ক্রিন দেখতাম না। এই সময়টা আমি আমার পরিবারের সাথে কাটাতাম বা নিজের পছন্দের কোনো বই পড়তাম। এতে আমার মন অনেক শান্ত থাকত। দিনের বেলায়ও কাজের ফাঁকে আমি ১৫-২০ মিনিটের জন্য ফোন থেকে পুরোপুরি দূরে থাকতাম এবং কিছুক্ষণ হেঁটে আসতাম বা চা খেতাম। এই রুটিনটা আমাকে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করেছে। আপনিও আপনার দিনের কোন সময়টা ডিজিটাল ডিভাইস ছাড়া কাটাবেন, সেটা ঠিক করে ফেলুন। এই রুটিনটা আপনার জীবনযাত্রায় একটা শৃঙ্খলা এনে দেবে এবং আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন, কতটা বাড়তি সময় আপনি পেয়ে যাচ্ছেন।

‘অ্যাপ লিমিট’ ব্যবহার করে দেখুন

আধুনিক স্মার্টফোনগুলোতে আজকাল দারুণ সব ফিচার থাকে, যার মধ্যে ‘অ্যাপ লিমিট’ অন্যতম। আমি যখন আমার স্ক্রিন টাইম কমাতে চেয়েছিলাম, তখন এই ফিচারটা খুব কাজে দিয়েছিল। আমি সোশ্যাল মিডিয়া বা যেসব অ্যাপে আমি বেশি সময় ব্যয় করতাম, সেগুলোর জন্য একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলাম। যেমন, ফেসবুকের জন্য দিনে ৩০ মিনিট। সময়টা শেষ হয়ে গেলেই অ্যাপটা আর ব্যবহার করা যেত না। প্রথম প্রথম খুব বিরক্ত লাগত, মনে হতো জোর করে কেউ আমার স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছে। কিন্তু বিশ্বাস করুন, কয়েকদিন পর থেকেই আমি এর সুফল দেখতে পেলাম। এই লিমিটেশন আমাকে বারবার ফোন হাতে নেওয়া থেকে বিরত রাখত এবং আমি সেই বাড়তি সময়টা অন্য কোনো কাজে লাগাতে পারতাম। আপনিও একবার আপনার ফোনের সেটিংসে গিয়ে এই ফিচারটা খুঁজে দেখুন, এটা আপনাকে অনেক সাহায্য করবে।

Advertisement

মনের জানালা খুলে নতুন কিছু খোঁজা

স্মার্টফোনের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকার ফলে আমরা যেন বাইরের সুন্দর জগতটাকে ভুলেই যাই। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যখন আমি স্ক্রিন টাইম কমাতে শুরু করি, তখন যেন এক নতুন পৃথিবী আমার সামনে উন্মোচিত হলো। আমার ছোটবেলার শখ ছিল ছবি আঁকা, যা অনেকদিন ধরেই ধূলোয় পড়ে ছিল। ফোন কম ব্যবহার করার ফলে আমি সেই তুলি আর রং নিয়ে আবার বসতে শুরু করলাম। এতে আমার মনের মধ্যে এক অদ্ভুত শান্তি অনুভব করতাম। আমার মনে হয়, আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই কিছু এমন শখ বা আগ্রহ থাকে যা এই ডিজিটাল দুনিয়ার ব্যস্ততার কারণে হারিয়ে যায়। এই শখগুলোকে আবার নতুন করে খুঁজে বের করাটা দারুণ একটা অভিজ্ঞতা হতে পারে। প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়া, বাগানে সময় কাটানো, বন্ধুদের সাথে মুখোমুখি আড্ডা দেওয়া – এই কাজগুলো আমাদের মনকে সতেজ করে তোলে এবং এক ধরনের নতুন আনন্দ দেয় যা কোনো সোশ্যাল মিডিয়া বা অনলাইন গেমের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব নয়। আমি নিশ্চিত, আপনিও যদি একটু চেষ্টা করেন, আপনার মনের জানালা খুলে যাবে এবং আপনি নিজের জন্য অনেক নতুন এবং আনন্দদায়ক কিছু খুঁজে পাবেন।

প্রকৃতির মাঝে নিজেকে খুঁজে নিন

আমার মনে হয়, প্রকৃতির সাথে সময় কাটানোটা যেকোনো ডিজিটাল ডিটক্সের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি যখন সারাদিন ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকতাম, তখন আমার চোখ আর মাথা দুটোই ভীষণ ক্লান্ত লাগত। কিন্তু যখন থেকে আমি প্রতিদিন সকালে বা সন্ধ্যায় পার্কের মধ্যে একটু হাঁটতে শুরু করি, তখন যেন মন আর শরীর দুটোই শান্ত হয়ে যায়। পাখির কিচিরমিচির শব্দ, খোলা আকাশের নিচে তাজা বাতাস – এই অনুভূতিগুলো সত্যিই অসাধারণ। এতে আমার মানসিক চাপও অনেক কমে এসেছে। আপনার বাড়ির কাছে কোনো পার্ক বা বাগান থাকলে সেখানে একটু ঘুরে আসুন। যদি এমন কোনো সুযোগ না থাকে, তাহলে অন্তত আপনার বারান্দায় বা ছাদে একটু সময় কাটান। সবুজ গাছপালা আর প্রকৃতির ছোঁয়া আপনার মনকে নতুন উদ্যমে ভরিয়ে তুলবে এবং আপনি নিজেই অনুভব করতে পারবেন প্রকৃতির মাঝে নিজের এক নতুন রূপ।

শখগুলোকে আবার জাগিয়ে তুলুন

আপনার কি এমন কোনো শখ আছে যা অনেকদিন ধরে অবহেলায় পড়ে আছে? হতে পারে বই পড়া, গান শোনা, ছবি তোলা, লেখালেখি করা, বাদ্যযন্ত্র বাজানো কিংবা রান্না করা। আমার মনে আছে, আমি একটা নতুন ভাষা শিখতে চেয়েছিলাম কিন্তু ফোন হাতে থাকায় কখনোই হয়ে ওঠেনি। ডিজিটাল ডিটক্সের সময় আমি সেই ভাষা শেখার পেছনে সময় দিতে শুরু করি। এতে শুধু আমার সময়ই ভালোভাবে কাটত না, আমার দক্ষতাও বাড়ছিল। স্মার্টফোন কম ব্যবহার করার ফলে যে বাড়তি সময়টা আপনি পাচ্ছেন, সেটা আপনার পুরোনো শখগুলোকে আবার নতুন করে শুরু করার জন্য ব্যবহার করুন। দেখবেন, এই শখগুলো আপনার জীবনে কতটা আনন্দ আর সার্থকতা বয়ে আনছে। নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার এটা একটা দারুণ সুযোগ।

সম্পর্কের সেতু বন্ধনে ডিজিটাল বিরতি

আমার মনে আছে, একসময় আমি আর আমার স্ত্রী রাতের খাবার খেতে বসেও নিজেদের ফোনে ব্যস্ত থাকতাম। দু’জনেরই মাথা নীচু, চোখ স্ক্রিনে আর মুখে কোনো কথা নেই। ব্যাপারটা এতটাই খারাপ লাগতো যে, মনে হতো আমরা দু’জন পাশাপাশি বসেও যেন শত মাইল দূরে আছি। তারপর একদিন সিদ্ধান্ত নিলাম, রাতের খাবার টেবিলে কোনো ফোন নয়। প্রথমদিকে একটু অদ্ভুত লাগলেও, ধীরে ধীরে আমরা একে অপরের সাথে কথা বলতে শুরু করলাম, দিনের ঘটনাগুলো নিয়ে আলোচনা করতাম। বিশ্বাস করুন, এই ছোট পরিবর্তনটা আমাদের সম্পর্ককে নতুন জীবন দিয়েছে। আজকালকার দিনে প্রযুক্তির প্রভাবে সম্পর্কের এই দূরত্ব তৈরি হওয়াটা খুবই সাধারণ একটা ব্যাপার। আমরা বন্ধুদের সাথে অনলাইনে চ্যাট করি, কিন্তু তাদের সাথে মুখোমুখি বসে কফি খেতে যাওয়ার সময় পাই না। পরিবারের সাথে ভিডিও কলে কথা বলি, কিন্তু তাদের সাথে সরাসরি সময় কাটানোর সুযোগ পাই না। ডিজিটাল ডিভাইস থেকে একটু বিরতি নেওয়াটা তাই শুধুমাত্র নিজের জন্য নয়, বরং আমাদের প্রিয়জনদের সাথে সম্পর্কের বাঁধন আরও মজবুত করার জন্যও খুবই জরুরি। আপনার আশেপাশের মানুষগুলোর সাথে একটু বেশি সময় কাটান, দেখবেন আপনার জীবন কতটা সহজ আর সুন্দর হয়ে উঠছে।

পরিবারের সাথে ‘নো-ফোন’ জোন

আপনার বাড়িতে এমন কিছু স্থান বা সময় ঠিক করুন যেখানে কোনো স্মার্টফোন বা ডিজিটাল ডিভাইস থাকবে না। যেমন, ডাইনিং টেবিল, বেডরুম অথবা পরিবারের সবাই যখন একসাথে বসে গল্প করছেন। আমার বাড়িতে আমরা ‘ফ্যামিলি টাইম’ বলে একটা নির্দিষ্ট সময় ঠিক করেছি, যেখানে সবার ফোন একটা নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা থাকে এবং সেই সময়টায় আমরা শুধুমাত্র একে অপরের সাথে সময় কাটাই। এতে আমাদের মধ্যে কথা বলার অভ্যাস তৈরি হয়েছে, একে অপরের মনের কথা বুঝতে পারছি এবং পারিবারিক বন্ধন আরও মজবুত হয়েছে। বাচ্চাদের সাথে লুকোচুরি খেলা বা তাদের সাথে বই পড়া – এই মুহূর্তগুলো সত্যিই অমূল্য। এই অভ্যাসটা তৈরি করতে প্রথমদিকে একটু সমস্যা হতে পারে, কিন্তু নিয়মিত অনুশীলন করলে দেখবেন এটা আপনার পরিবারের জন্য কতটা উপকারী প্রমাণিত হচ্ছে।

বন্ধুদের সাথে সরাসরি আড্ডা

সোশ্যাল মিডিয়াতে বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখাটা জরুরি, কিন্তু এর চেয়েও জরুরি হলো তাদের সাথে সরাসরি দেখা করা, গল্প করা, হাসাহাসি করা। আমি দেখেছি, অনলাইন চ্যাটের মাধ্যমে যে গভীরতা পাওয়া যায় না, মুখোমুখি আড্ডায় সেই গভীরতা তৈরি হয়। একসময় আমি ভাবতাম, বন্ধুদের সাথে অনলাইনে তো কথা হচ্ছেই, তাহলে আর দেখা করার কী দরকার? কিন্তু যখন থেকে আমি আবার পুরনো বন্ধুদের সাথে দেখা করতে শুরু করলাম, তখন বুঝলাম এর আনন্দটাই আলাদা। একসাথে কফি খাওয়া, সিনেমা দেখা বা জাস্ট বসে গল্প করা – এই ছোট ছোট বিষয়গুলো মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার বন্ধুদের সাথে একটা দিনের জন্য পরিকল্পনা করুন, ফোন থেকে দূরে থেকে শুধু তাদের সাথে সময় কাটান। দেখবেন, এই মুহূর্তগুলো আপনাকে কতটা আনন্দ দিচ্ছে এবং আপনার মনকে সতেজ রাখছে।

Advertisement

কর্মক্ষেত্রে এবং ব্যক্তিগত জীবনে ভারসাম্য

디지털디톡스와 스마트 기기 사용 줄이기 - **Prompt 2: Connected Mealtime: Family Harmony**
    "A happy family of four – a mother and father i...

আজকাল কাজ আর ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে একটা স্পষ্ট বিভেদ তৈরি করা খুব কঠিন হয়ে গেছে। স্মার্টফোন আর ল্যাপটপের কারণে অফিসের কাজ যেন বাড়িতেও চলে আসে, আর ব্যক্তিগত সময়টাও ইমেইল বা মেসেজ চেক করতে গিয়ে শেষ হয়ে যায়। আমার নিজের ক্ষেত্রেও এমনটা ঘটত। ছুটির দিনেও অফিসের মেইল চেক করার একটা প্রবণতা ছিল, যার ফলে আমি কখনোই পুরোপুরি চাপমুক্ত হতে পারতাম না। এতে আমার পারিবারিক জীবনেও প্রভাব পড়ছিল। একটা নির্দিষ্ট সময় পর আমি সিদ্ধান্ত নিই যে, অফিসের কাজের সময় ছাড়া আমি আর অফিসের কোনো কিছু নিয়ে চিন্তা করব না। ছুটির দিনে বা সন্ধ্যার পর আমি আমার অফিসের ইমেইল বা মেসেজ দেখা বন্ধ করে দিই। প্রথম প্রথম এটা মানিয়ে নেওয়া কঠিন ছিল, মনে হতো কোনো জরুরি কাজ বুঝি মিস করে যাচ্ছি। কিন্তু ধীরে ধীরে দেখলাম, এটা আমার মানসিক শান্তি ফিরিয়ে এনেছে এবং আমি আমার ব্যক্তিগত সময়টা আরও ভালোভাবে উপভোগ করতে পারছি। এই অভ্যাসটা আমাকে কর্মক্ষেত্রে আরও বেশি মনোযোগী হতে সাহায্য করেছে, কারণ আমি জানতাম যে, একটা নির্দিষ্ট সময়ের পর আমি আমার পছন্দের কাজগুলো করতে পারব। একটি সুষম জীবনযাপন করার জন্য কাজ এবং ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাটা খুবই জরুরি।

কাজের সময় স্মার্টফোন নিয়ন্ত্রণ

কাজের সময় আমাদের স্মার্টফোন প্রায়শই মনোযোগের একটা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আমি যখন ল্যাপটপে কাজ করতাম, তখন পাশে ফোনটা থাকলেই বারবার চেক করার একটা ইচ্ছা হতো। এতে আমার কাজের গতি কমে যেত। এই সমস্যাটা দূর করতে আমি একটা সহজ কৌশল অবলম্বন করি: কাজের সময় ফোনটা হয় ড্রয়ারে রেখে দিতাম, নয়তো অন্য কোনো ঘরে রেখে আসতাম। যদি জরুরি কোনো কল বা মেসেজের প্রয়োজন হতো, তাহলে শুধুমাত্র সেটুকু সময়ের জন্য ফোন হাতে নিতাম। এতে আমার কাজের প্রতি মনোযোগ বেড়েছে এবং আমি অল্প সময়ে বেশি কাজ শেষ করতে পারতাম। আপনারও যদি কাজের সময় ফোন আপনাকে বিরক্ত করে, তাহলে এই সহজ পদ্ধতিটা একবার চেষ্টা করে দেখুন। দেখবেন, আপনার কাজের মান এবং গতি দুটোই বেড়ে যাবে।

সাপ্তাহিক ছুটির ডিজিটাল বিরতি

সপ্তাহের শেষটা আমাদের সবার জন্যই একটু স্বস্তিদায়ক হয়। কিন্তু এই স্বস্তিও যদি আমরা স্মার্টফোন আর ল্যাপটপের পেছনে কাটিয়ে দিই, তাহলে আর মনটা সতেজ হবে কীভাবে? আমি আমার সাপ্তাহিক ছুটিতে একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ডিজিটাল বিরতি নিই। যেমন, শনিবারে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমি কোনো স্ক্রিন দেখি না। এই সময়টা আমি পরিবারের সাথে কাটাই, কোথাও ঘুরতে যাই অথবা নিজের পছন্দের কোনো কাজ করি। এতে আমার মন এবং শরীর দুটোই সতেজ হয় এবং নতুন সপ্তাহের জন্য আমি আরও বেশি এনার্জি নিয়ে প্রস্তুত হতে পারি। এই ডিজিটাল বিরতিটা আপনাকে কাজের চাপ থেকে সম্পূর্ণ মুক্তি দিতে সাহায্য করবে এবং আপনি আপনার নিজের জন্য আরও বেশি সময় খুঁজে পাবেন।

বাচ্চাদের জন্য আদর্শ ডিজিটাল পরিবেশ

আজকালকার বাচ্চারা জন্মের পর থেকেই স্মার্টফোনের সাথে পরিচিত। ছোটবেলা থেকেই তারা স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকে, যা তাদের শারীরিক এবং মানসিক বিকাশের জন্য একেবারেই ভালো নয়। আমার নিজের ছোট ভাইপো-ভাইঝিকে দেখে আমি এটা খুব ভালোভাবে বুঝতে পারি। একসময় তারাও ঘন্টার পর ঘন্টা ভিডিও গেম খেলত বা কার্টুন দেখত। তারপর আমি তাদের বাবা-মাকে বোঝাই যে, একটা নির্দিষ্ট ডিজিটাল পরিবেশ তৈরি করা কতটা জরুরি। আমরা একটা নিয়ম তৈরি করেছিলাম যে, বাচ্চারা দিনে শুধুমাত্র এক ঘন্টার জন্য স্ক্রিন টাইম পাবে এবং সেই সময়টাতেও তারা শিক্ষামূলক কিছু দেখবে। এছাড়া, আমরা তাদের জন্য বিকল্প বিনোদনের ব্যবস্থা করেছিলাম, যেমন – বই পড়া, খেলার মাঠে দৌড়ানো, ছবি আঁকা বা বিভিন্ন ক্রাফট করা। এতে তাদের সৃজনশীলতা বেড়েছে এবং তারা আরও সামাজিক হয়ে উঠেছে। বাবা-মা হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো বাচ্চাদের জন্য একটা সুস্থ ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করা। কারণ, ছোটবেলায় যে অভ্যাস তৈরি হয়, সেটা সারাজীবন ধরে তাদের সাথে থাকে। তাই একটু সতর্ক থাকাটা খুবই জরুরি।

নিয়ন্ত্রিত স্ক্রিন টাইম ও বিকল্প বিনোদন

বাচ্চাদের জন্য স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করাটা খুবই জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কোনো স্ক্রিন টাইম একেবারেই উচিত নয়, আর তার বেশি বয়সীদের জন্য দিনে এক ঘণ্টার বেশি নয়। এই সময়টা ঠিক করার পর, তাদের জন্য বিকল্প বিনোদনের ব্যবস্থা করা উচিত। আমি আমার ভাইপো-ভাইঝিদের জন্য বিভিন্ন বোর্ড গেম, গল্পের বই, রং পেন্সিল আর খেলার সামগ্রী কিনে দিয়েছিলাম। তারা এখন মোবাইল গেমের বদলে এগুলোতে বেশি আগ্রহী। বাইরে খেলতে যাওয়া, নতুন কিছু শেখা, বা তাদের পছন্দের কোনো কাজ করতে দেওয়া – এই সবই তাদের মনকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে সাহায্য করে। এতে তারা নতুন নতুন দক্ষতা অর্জন করতে পারে এবং তাদের সামাজিক বিকাশও ঘটে।

পিতামাতার আদর্শ আচরণ

বাচ্চারা সবসময় বাবা-মাকে অনুকরণ করে। যদি বাবা-মা সারাক্ষণ ফোনে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে বাচ্চারাও সেটাই শিখবে। তাই, নিজেরা আদর্শ আচরণ দেখানোটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি যখন ভাইপো-ভাইঝিদের সাথে থাকি, তখন আমি নিজেও আমার ফোনটা দূরে রাখি। এতে তারা বোঝে যে, এই সময়টা শুধুমাত্র তাদের জন্য। তাদের সাথে কথা বলুন, গল্প করুন, তাদের খেলায় অংশ নিন। এই ছোট ছোট বিষয়গুলো তাদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বাচ্চাদের সাথে একটা মানসম্পন্ন সময় কাটানোটা তাদের মানসিক বিকাশের জন্য খুবই জরুরি। আপনার ডিজিটাল অভ্যাস পরিবর্তন করলে আপনার বাচ্চারাও ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত হবে এবং একটি স্বাস্থ্যকর ডিজিটাল জীবনযাপন করতে শিখবে।

Advertisement

দীর্ঘমেয়াদী সুস্থ ডিজিটাল অভ্যাসের বীজ বুনন

ডিজিটাল ডিটক্স বা স্ক্রিন টাইম কমানোটা কোনো একদিনের ব্যাপার নয়, এটা একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আমার মনে আছে, প্রথম দিকে যখন আমি এই অভ্যাসগুলো শুরু করি, তখন মাঝে মাঝে ফোন হাতে নিয়েই অজান্তেই সোশ্যাল মিডিয়ায় চলে যেতাম। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। প্রতিবার যখনই আমি নিজেকে ফোনের স্ক্রিনে বুঁদ হতে দেখতাম, তখনই আমি নিজেকে থামিয়ে দিতাম এবং অন্য কোনো কাজে মন দিতাম। এই ধারাবাহিক চেষ্টাটাই আমাকে একটি সুস্থ ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে। এটা অনেকটা গাছের চারা রোপণ করার মতো। আজ বীজ বুনলে কালই ফল পাওয়া যায় না, এর জন্য নিয়মিত যত্ন নেওয়া দরকার। আমাদের মানসিক শান্তি এবং সুস্থ জীবনযাপনের জন্য এই অভ্যাসগুলো দীর্ঘমেয়াদী হওয়া জরুরি। একবার যদি আপনি এই অভ্যাসগুলো গড়ে তুলতে পারেন, তাহলে দেখবেন আপনার জীবন কতটা সহজ আর আনন্দময় হয়ে উঠেছে। মনে রাখবেন, প্রযুক্তির ব্যবহার খারাপ নয়, বরং এর অতিরিক্ত ব্যবহারই সমস্যা তৈরি করে। তাই, একটা ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাপন করাই হলো আসল ম্যাজিক।

নিয়মিত বিরতি এবং আত্ম-পর্যালোচনা

দীর্ঘমেয়াদী সুস্থ ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য নিয়মিত বিরতি নেওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন পুরোপুরি ডিজিটাল বিরতি নিই, যেখানে আমি কোনো স্ক্রিন দেখি না। এই সময়টা আমি নিজের জন্য, নিজের পছন্দের কাজগুলোর জন্য ব্যবহার করি। এছাড়াও, আমি প্রতি মাসে একবার নিজের ডিজিটাল ব্যবহারের একটা আত্ম-পর্যালোচনা করি। আমি কতটা সময় স্ক্রিনে ব্যয় করছি, কোন অ্যাপগুলোতে বেশি সময় দিচ্ছি, আমার ডিজিটাল অভ্যাসগুলো কতটা ভালো বা খারাপ হচ্ছে – এই বিষয়গুলো নিয়ে আমি ভাবি। এই আত্ম-পর্যালোচনা আমাকে আমার ভুলগুলো শুধরে নিতে এবং আরও ভালোভাবে ডিজিটাল জীবনযাপন করতে সাহায্য করে। আপনিও একটা নির্দিষ্ট সময় পর নিজের ডিজিটাল অভ্যাসগুলো পর্যালোচনা করুন, দেখবেন এটা আপনাকে অনেক সাহায্য করবে।

প্রযুক্তিকে বন্ধু হিসেবে দেখুন, প্রভু হিসেবে নয়

প্রযুক্তি আমাদের জীবনের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এই প্রযুক্তির ব্যবহার যাতে আমাদের উপর প্রভুত্ব না করে, সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। আমি শিখেছি, প্রযুক্তিকে নিজের সুবিধার জন্য ব্যবহার করা উচিত, এর দাস হয়ে থাকা উচিত নয়। যেমন, জরুরি তথ্যের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করা, প্রিয়জনদের সাথে যোগাযোগ রাখা, বা নতুন কিছু শেখার জন্য অ্যাপ ব্যবহার করা – এগুলো সবই প্রযুক্তির ভালো দিক। কিন্তু বিনোদন বা সময় কাটানোর অজুহাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনে আটকে থাকাটা একেবারেই ভালো নয়। একটা ভারসাম্য বজায় রেখে প্রযুক্তি ব্যবহার করুন। আমি ব্যক্তিগতভাবে আমার স্মার্টফোনকে একটা টুল হিসেবে দেখি, যা আমাকে সাহায্য করে, কিন্তু আমার জীবন নিয়ন্ত্রণ করে না। এই মানসিকতাটা আপনাকে একটি সুস্থ এবং আনন্দময় ডিজিটাল জীবনযাপন করতে সাহায্য করবে।

ডিজিটাল অভ্যাসের ক্ষেত্র অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ অভ্যাস
সকাল বেলার শুরু ঘুম ভাঙতেই ফোন চেক করা, সোশ্যাল মিডিয়া দেখা। ফোন থেকে দূরে থাকা, ব্যায়াম/বই পড়া/পরিবারের সাথে সময় কাটানো।
খাবার সময় খাবার টেবিলে ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকা, স্ক্রিন দেখা। ফোন দূরে রাখা, পরিবারের সাথে গল্প করা, খাবার উপভোগ করা।
কাজের/পড়াশোনার সময় ঘন ঘন ফোন চেক করা, নোটিফিকেশনে মনোযোগ নষ্ট হওয়া। ফোন সাইলেন্ট/দূরে রাখা, নির্দিষ্ট সময় পর বিরতি নেওয়া।
ঘুমানোর আগে দীর্ঘক্ষণ ফোন/ল্যাপটপ ব্যবহার করা, স্ক্রিনের আলো চোখে লাগা। ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে সব স্ক্রিন বন্ধ করা, বই পড়া/গান শোনা।
অবসর সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়া/ভিডিও গেমে সময় কাটানো। শখ পূরণ করা, প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়া, বন্ধুদের সাথে দেখা করা।

글কে বিদায় জানাই

সত্যি বলতে কি, প্রযুক্তির এই বিশাল জগতে আমরা সবাই এক অদ্ভুত মোহে আটকে আছি। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, ডিজিটাল ডিটক্স মানে শুধু ফোন বা ল্যাপটপ থেকে দূরে থাকা নয়, বরং নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করা। এই যাত্রাটা হয়তো সবসময় মসৃণ হবে না, কিন্তু ছোট ছোট পদক্ষেপেই আপনি নিজের জীবনকে আরও সুন্দর আর অর্থবহ করে তুলতে পারবেন। আমি জানি, আপনিও পারবেন এই ভারসাম্যপূর্ণ জীবনযাত্রার অংশ হতে। নিজের মানসিক শান্তি, সম্পর্ক আর শখগুলোকে আবার নতুন করে ভালোবাসতে শিখুন, দেখবেন জীবন কতটা সহজ হয়ে উঠেছে!

Advertisement

কিছু দরকারি পরামর্শ

১. আপনার ডিজিটাল ব্যবহারের একটা নির্দিষ্ট সময়সীমা তৈরি করুন। কোন অ্যাপ কতক্ষণ ব্যবহার করবেন, সেটার একটা রুটিন তৈরি করলে অযথা স্ক্রল করা থেকে বাঁচবেন। যেমন, দিনে সোশ্যাল মিডিয়ার জন্য ৩০ মিনিট বা এক ঘণ্টা বরাদ্দ রাখতে পারেন। আপনার ফোনের ‘স্ক্রিন টাইম’ ফিচারটি এক্ষেত্রে দারুণ সাহায্য করবে।

২. অপ্রয়োজনীয় সব নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিন। টুংটাং শব্দে মনোযোগ নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচতে এটা খুবই কার্যকর। শুধু জরুরি কল বা বার্তার নোটিফিকেশন চালু রাখুন। এতে বারবার ফোন চেক করার তাগিদ কমে যাবে এবং আপনি নিজের কাজে আরও মনোযোগ দিতে পারবেন।

৩. আপনার পুরোনো শখ বা নতুন কিছু শেখার পেছনে সময় দিন। বই পড়া, ছবি আঁকা, গান শোনা, বাগানে কাজ করা অথবা নতুন কোনো ভাষা শেখা – এই কাজগুলো আপনার মনকে সতেজ রাখবে এবং সৃজনশীলতা বাড়াবে। দেখবেন, স্মার্টফোনের বাইরেও কত আনন্দময় কাজ রয়েছে।

৪. পরিবারের সদস্য এবং বন্ধুদের সাথে সরাসরি সময় কাটানোর চেষ্টা করুন। ডিজিটাল দুনিয়ার বাইরে বাস্তব জীবনে একে অপরের সাথে আড্ডা দিন, গল্প করুন। রাতের খাবার টেবিলে ফোন বন্ধ রেখে পরিবারের সাথে কথা বলুন। এই ছোট অভ্যাসগুলো সম্পর্ককে আরও মজবুত করবে।

৫. ঘুমানোর কমপক্ষে এক ঘণ্টা আগে যেকোনো ধরনের স্ক্রিন বন্ধ করে দিন। ল্যাপটপ, ট্যাবলেট বা স্মার্টফোন থেকে আসা নীল আলো আপনার ঘুমের মান নষ্ট করে। এই সময়টা আপনি বই পড়ে বা হালকা কিছু শুনে কাটাতে পারেন, দেখবেন ঘুম অনেক ভালো হবে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো একনজরে

আজকের এই ব্যস্ত ডিজিটাল জীবনে নিজেকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে ডিজিটাল ভারসাম্য বজায় রাখাটা খুবই জরুরি, এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি। আমরা দেখেছি কীভাবে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম আমাদের মানসিক শান্তি কেড়ে নেয়, ঘুম নষ্ট করে, আর প্রিয়জনদের থেকে দূরে ঠেলে দেয়। কিন্তু একটু সচেতন হলেই এর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। নিজের স্মার্টফোন ব্যবহারের একটা রুটিন তৈরি করা, অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশনগুলো বন্ধ রাখা, এবং স্ক্রিন টাইম অ্যাপ ব্যবহার করে নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ আনা – এই সবই সুস্থ ডিজিটাল জীবনযাত্রার প্রথম ধাপ। প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়া, পুরোনো শখগুলো আবার নতুন করে শুরু করা, কিংবা পরিবারের সাথে ‘নো-ফোন’ জোন তৈরি করা – এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো আপনাকে মানসিক শান্তি ফিরিয়ে আনবে এবং সম্পর্কগুলোকে আরও গভীর করবে। মনে রাখবেন, প্রযুক্তি আমাদের বন্ধু হতে পারে, কিন্তু কখনোই প্রভু নয়। এর সুব্যবহার করে আমরা নিজেদের জীবনকে আরও সুন্দর করে তুলতে পারি। আমি নিজেও যখন এই বিষয়গুলো মেনে চলতে শুরু করেছিলাম, তখন আমার নিজের জীবনেও অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছিল। তাই, আজ থেকেই এই সুস্থ অভ্যাসগুলো গড়ে তুলুন, দেখবেন আপনার জীবন কতটা সহজ আর আনন্দময় হয়ে উঠেছে। নিজের যত্ন নিন, কারণ আপনার মানসিক ও শারীরিক সুস্থতাই সবার আগে!

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

আজকাল সকালে চোখ খুলেই আমরা কি করি? বেশিরভাগ সময়ই তো অজান্তেই হাত চলে যায় স্মার্টফোনের দিকে, তাই না? অফিসের কাজ থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, বিনোদন – সবকিছুই এখন এই ছোট্ট ডিভাইসের স্ক্রিন বন্দি। আমিও কিন্তু একসময় সারাক্ষণ ফোনেই ডুবে থাকতাম, এমনকি রাতের ঘুমটাও ঠিকমতো হতো না। মনে হতো যেন আমার সারাটা দুনিয়া এই ফোনের ভেতরেই। কিন্তু জানেন কি, এই সীমাহীন ডিজিটাল আসক্তি আমাদের অজান্তেই মানসিক শান্তি কেড়ে নিচ্ছে, পরিবার-বন্ধুদের সাথে দূরত্ব তৈরি করছে?

এই আধুনিক জীবনে প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি এর অতিরিক্ত ব্যবহারের কুফলগুলোও এখন স্পষ্ট। আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, স্মার্ট ডিভাইস থেকে একটু বিরতি নিলেই মনটা অনেক ফুরফুরে হয়, আর কাজেও বেশি মন বসে। আপনিও যদি এই সমস্যায় ভুগছেন বা একটি স্বাস্থ্যকর ডিজিটাল জীবনযাপন খুঁজছেন, তবে এই লেখাটি আপনার জন্যই। চলুন, নিচের লেখাটিতে এই ডিজিটাল বিশ্বের গোলকধাঁধা থেকে বেরিয়ে আসার উপায়গুলো বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।প্রশ্ন১: এই ডিজিটাল আসক্তি ঠিক কী, আর এটা কীভাবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ক্ষতি করছে?

উত্তর১: ডিজিটাল আসক্তি মানে হলো যখন আমরা স্মার্টফোন, কম্পিউটার বা ইন্টারনেটের অতিরিক্ত ব্যবহারে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি, আর এটা আমাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে খারাপ প্রভাব ফেলে। আমার নিজের অভিজ্ঞতা বলি, একসময় আমি এতটাই ফোনে মগ্ন থাকতাম যে পরিবারের সাথে গল্প করার সময়ও আনমনে স্ক্রল করতাম। এতে করে কী হতো জানেন?

তারা ভাবতো আমি তাদের কথা গুরুত্ব দিচ্ছি না, আর আমাদের মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি হচ্ছিল। শুধু তাই নয়, রাতের পর রাত সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটাতে গিয়ে আমার ঘুমের সময় এলোমেলো হয়ে গিয়েছিল, যার ফলে সকালে উঠে ক্লান্তি লাগতো আর কাজে মন বসতো না। এই আসক্তি কেবল সময় নষ্ট করে না, বরং আমাদের মনোযোগ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, মেজাজ খিটখিটে করে তোলে, এমনকি বাস্তব জীবনের সম্পর্কগুলোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করে। আজকাল অনেককেই দেখি রাস্তায় চলতে ফিরতে বা খাওয়ার টেবিলেও ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকতে। এতে করে আশপাশের সুন্দর মুহূর্তগুলো আমরা উপভোগ করতে পারছি না, হারিয়ে ফেলছি একে অপরের সাথে স্বাভাবিক যোগাযোগের মাধুর্য। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের মানসিক শান্তি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।প্রশ্ন২: স্মার্ট ডিভাইস থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন না হয়েও কীভাবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ডিজিটাল জীবনযাপন করা যায়?

উত্তর২: হ্যাঁ, এই প্রশ্নটা আমার মাথায়ও ঘুরপাক খেত! আজকের দিনে ডিজিটাল ডিভাইস ছাড়া চলা প্রায় অসম্ভব। তাই আমি নিজে কিছু নিয়ম তৈরি করেছি। প্রথমত, আমি সারাদিনের জন্য একটা নির্দিষ্ট ‘স্ক্রিন টাইম’ ঠিক করে নিয়েছি। ফোনের সেটিংসে গিয়েই এই ফিচারটা চালু করা যায়, যেটা আমাকে দেখায় আমি কতক্ষণ ফোন ব্যবহার করছি। এরপর আমি কিছু অ্যাপস নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিয়েছি যেগুলো আমার মনোযোগ বারবার নষ্ট করে। সত্যি বলতে, যখন নোটিফিকেশন আসা বন্ধ হলো, তখন অনুভব করলাম কত শান্তিতে আছি। আমি চেষ্টা করি প্রতিদিন কিছুক্ষণ ফোন থেকে দূরে থাকতে, বিশেষ করে খাওয়ার সময় বা ঘুমানোর আগে এক ঘণ্টা। এর বদলে আমি বই পড়ি বা পরিবারের সাথে গল্প করি। আমার মনে আছে, এই অভ্যাস শুরু করার পর আমার রাতের ঘুম অনেক ভালো হতে শুরু করে। এছাড়াও, মাঝেমধ্যে আমি ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ করি, মানে একদিন বা দু’দিন ফোন বা ইন্টারনেট থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকি। এতে মনটা অনেক হালকা লাগে আর নিজেকে সতেজ মনে হয়। ছোট ছোট এই পরিবর্তনগুলো আপনার ডিজিটাল জীবনকে অনেক স্বাস্থ্যকর করে তুলতে পারে।প্রশ্ন৩: ডিজিটাল আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য কিছু কার্যকরী এবং ব্যবহারিক টিপস কী কী?

উত্তর৩: আমার মতো অনেকেই শুরুতে বুঝতে পারেন না যে ঠিক কোথা থেকে শুরু করবেন। আমি কিছু টিপস দিতে পারি যা আমি নিজে ব্যবহার করে উপকার পেয়েছি। প্রথমত, আপনার ফোনের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত অ্যাপসগুলো শনাক্ত করুন এবং সেগুলোর নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিন। আমি দেখেছি, বারবার নোটিফিকেশন আসার কারণেই আমরা ফোনে বেশি সময় কাটাই। দ্বিতীয়ত, ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন ব্যবহার বন্ধ করে দিন। আমি তো আমার ফোন বেডরুমের বাইরে রেখে ঘুমাই, এতে রাতে আর অকারণে ফোনের দিকে হাত যায় না। তৃতীয়ত, সকালে ঘুম থেকে উঠেই ফোনে হাত না দিয়ে অন্তত ১৫-২০ মিনিট অন্য কোনো কাজ করুন, যেমন: এক গ্লাস পানি পান করা, জানালা খুলে বাইরের দৃশ্য দেখা বা হালকা ব্যায়াম করা। চতুর্থত, নিজের জন্য কিছু ‘নো-ফোন জোন’ তৈরি করুন – যেমন খাওয়ার টেবিলে বা বাথরুমে ফোন ব্যবহার করবেন না। পঞ্চমত, বন্ধুদের সাথে বা পরিবারের সাথে যখন সময় কাটাবেন, তখন ফোনটা ব্যাগ বা পকেটে রেখে দিন। তাদের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দিন। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিপস হলো, যখনই ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের প্রবল ইচ্ছা জাগবে, নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, “এই মুহূর্তে আমি সত্যিই কী করতে চাইছি, আর এটা কি সত্যিই জরুরি?” এই আত্ম-জিজ্ঞাসা আমাকে অনেকবার অকারণ ডিজিটাল স্ক্রল করা থেকে বাঁচিয়েছে। এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলো আপনাকে ধীরে ধীরে আসক্তি থেকে মুক্তি দেবে।

Advertisement